সেন্টমার্টিনে ‘ফ্রি চিকিৎসা’ ক্যাম্প ঘিরে জটিলতা, জামায়াত-সম্পৃক্ততার অভিযোগ
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | সেন্টমার্টিন
সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও শিশুদের খতনা কর্মসূচি ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে একাধিক স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। দুই শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করে এবং পরে ওষুধ দেওয়া হয়।
তবে কর্মসূচির দুই দিন পর বহু শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফোলা, ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের অভিযোগ ওঠে। সেন্টমার্টিন হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অর্ধশতাধিক শিশুর চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের জটিলতার কারণ চিকিৎসাগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া টিমটির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, টিমের কয়েকজন সদস্যকে জামায়াতে ইসলামীপন্থী বক্তব্য দিতে এবং দলটির পক্ষে যুক্তি-তর্ক ও প্রশংসা করতে শোনা গেছে। এ কারণে স্থানীয়দের কেউ কেউ টিমটিকে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ বা জামায়াতের একটি টিম বলে দাবি করছেন।
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—দ্বীপে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, টিমের সদস্যদের পেশাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট অনুমোদন কী ছিল এবং বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করার পর প্রয়োজনীয় ফলোআপ ব্যবস্থা কেন রাখা হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই মেডিকেল টিমের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল না। ইউএনও বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিশুদের চিকিৎসাজনিত জটিলতার প্রকৃত কারণ, ক্যাম্প পরিচালনার অনুমোদন এবং টিমটির সাংগঠনিক পরিচয়—সবকিছু তদন্ত করে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।