📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৪

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, দায় নেবে কে?

 

গাজীপুর প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার্স

 

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলায় গুরুতর আহত ২১ বছর বয়সী তৌফিক শেখের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার সিং জিং জাপান হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে এমন প্রাণহানির ঘটনায় উঠেছে নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

 

নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের জীবিকার তাগিদে প্রায় পাঁচ বছর আগে গাজীপুরে পাড়ি জমান তিনি। কাজ নেন স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তৌফিক। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সহকর্মী ও আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

তৌফিকের চাচা বাচ্চু মিয়া জানান, বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার প্রয়োজনে গাজীপুরে কাজ শুরু করেছিলেন তৌফিক। এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি পান। তাঁর এমন মৃত্যুতে পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।

 

অন্যদিকে, গাজীপুর জেলা পুলিশ ২ নভেম্বর রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কেউ আহত বা নিহত হননি। তবে তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয়, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আনা জরুরি।

প্রশ্ন উঠছে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলনে একজন তরুণের প্রাণহানির দায় কার? আন্দোলনের নামে হামলা-সহিংসতা, শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘাটতি—যে কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকুক, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

 

তৌফিকের মৃত্যু যেন কেবল একটি শোকসংবাদ হয়ে না থাকে। তাঁর মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি এখন পরিবারের পাশাপাশি সচেতন মহলেরও। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ন্যায্য দাবির শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

 

একটি প্রাণ চলে গেছে, একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের আপনজন। এখন প্রশ্ন—এই মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

শেয়ার করে অন্যদের জানান