সাব্বিরের হকার উচ্ছেদে অস্ত্র তাক আজীবন কলঙ্ক, ইশরাকের অস্ত্র হাতে ধাওয়ায় হাততালি—এ কেমন দ্বিচারিতা?
গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাবেক নগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও ওয়ারীর আশিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা আলোচনায় আসে। মুহূর্তেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনামে উঠে আসে বিষয়টি। পরিণতিতে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন সাব্বির ও আশিক।
এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দশ বছর। অভিযোগ রয়েছে, সেই একটি ঘটনাই সাব্বির হোসেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো সাংগঠনিক কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন পাননি তিনি। অন্যদিকে, প্রশাসনিক হয়রানি ও গণমাধ্যমের প্রচারের চাপে আশিককে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অথচ ঢাকার সাবেক মেয়র আনিসুল হকের উচ্ছেদ অভিযানকে একই গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছিল ইতিবাচকভাবে। নগরীর দখলমুক্তকরণে তাঁর উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছিল। তাহলে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশ্নে সাব্বিরদের ঘটনাটি কেন হয়ে উঠল তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের স্থায়ী কলঙ্ক?
আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে ইশরাককে ঘিরে আলোচিত অস্ত্রের ভিডিও সামনে আসার পর। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রকাশ্যে মানুষের দিকে অস্ত্র তাক করেছেন, অস্ত্র হাতে তাঁদের ধাওয়া করেছেন এবং সেই ভিডিও নিজেই ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। অথচ এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কার কিংবা শোকজের মতো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাব্বিরের এক ফাঁকা গুলিতে যদি রাজনৈতিক জীবনের দশ বছর অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তাহলে ইশরাকের অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়ার ঘটনায় একই রকম জবাবদিহি কেন দেখা যাবে না?
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলেই তা ব্যাপক প্রচারে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে একই তীব্রতা দেখা না গেলে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
সমালোচকদের অভিযোগ, ছাত্রলীগকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও কোণঠাসা করে রাখার যে কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে, সাব্বির হোসেনের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’—যেখানে একটি দিনের শিরোনাম একজন রাজনৈতিক কর্মীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
আজ সাব্বিরের জন্য যা ছিল আজীবন কলঙ্ক, ইশরাকের ক্ষেত্রে তা যদি রাজনৈতিক হাততালি ও নীরবতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, তবে প্রশ্ন উঠবেই—আইন, সংবাদমাধ্যম ও সাংগঠনিক জবাবদিহির মানদণ্ড কি সবার জন্য সমান?
সাব্বিরের রাজনৈতিক বলিদানের অভিযোগ আর ইশরাককে ঘিরে নীরবতার বিতর্ক—দুটি ঘটনা সামনে রেখে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
একই ধরনের অভিযোগে এক পক্ষের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ধ্বংস হবে, আর অন্য পক্ষ উপভোগ করবে হাততালি—রাজনীতিতে এই দ্বিমুখী মানদণ্ডের অবসান হবে কবে?