📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:২৫

সাবেক ছাত্রদল নেতা থেকে পুলিশ সুপার! ফেনীতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ

 

ফেনী প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার্স

 

ফেনীতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানি, জামিনে মুক্তির পর পুনরায় গ্রেপ্তার এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আইনের রক্ষকই যদি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়?

 

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নতুন মামলায় জড়িয়ে তাঁদের আইনি জটিলতায় আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর ফেনী মডেল থানার পাশের একটি কক্ষে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জামিন পেয়েও স্বস্তি নেই, নতুন মামলায় হয়রানির অভিযোগ

 

আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর একজন নাগরিকের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরে পাওয়ার কথা। কিন্তু ফেনীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে জামিনের পরও পুনরায় গ্রেপ্তার এবং নতুন মামলায় জড়ানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।

 

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এভাবে মামলা ও গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতা নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

 

অবশ্য নতুন মামলায় গ্রেপ্তারের বৈধতা সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য ও আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আইন প্রয়োগের নামে রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ উঠলে তার জবাব দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই।

 

থানার পাশের কক্ষে নির্যাতনের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে পুলিশি ভূমিকা

 

ফেনী মডেল থানার পাশের একটি কক্ষে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগটি পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

 

হেফাজতে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। সেই হেফাজতেই যদি নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার নয়, পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করে।

 

রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের ঊর্ধ্বে রাখে না—কিন্তু একইভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি বা নির্যাতন করারও সুযোগ নেই। আইন সবার জন্য সমান হওয়ার কথা; ক্ষমতার প্রয়োগেও সেই নীতি কার্যকর থাকা জরুরি।

 

সাবেক ছাত্রদল-সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন, বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

 

পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের কথিত সাবেক ছাত্রদল-সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগকারীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অতীত ও বর্তমান প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

 

তবে তাঁর রাজনৈতিক অতীত সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করে, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সেগুলোর যথাযথ জবাবদিহির বিষয়টিই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

 

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অধিকার কি উপেক্ষিত?

 

রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো নাগরিকের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও বিচার হবে আইনের নির্ধারিত পথে। কিন্তু অভিযোগের অজুহাতে হয়রানি, বেআইনি আটক কিংবা হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে তার দায়ও এড়ানোর সুযোগ নেই।

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনগত সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত। ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কবে?

 

ফেনীতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হয়রানি, জামিনের পর পুনরায় গ্রেপ্তার এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের বক্তব্যও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

 

আইনের শাসন মানে শুধু গ্রেপ্তার করা নয়, আইন মেনে চলাও। অপরাধের বিচার আদালতে হবে, আর পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করাই রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

শেয়ার করে অন্যদের জানান