📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৪

জামিন মিলছে না ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের, আদালতের বারান্দায় বৃদ্ধ মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদ!

**বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | বিশেষ প্রতিবেদন**

সন্তানের মুক্তির আশায় আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা করছেন বৃদ্ধ মায়েরা। কারও চোখে অশ্রু, কারও কণ্ঠে অসহায় আকুতি, আবার কেউ নীরবে তাকিয়ে আছেন আদালতের দরজার দিকে—যদি কখনো আসে সেই কাঙ্ক্ষিত খবর, যদি মুক্তি পায় তাঁদের আদরের সন্তান। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়েও সন্তানের জামিনের আশায় আদালতপাড়ায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। এই দৃশ্য যেন একেকটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, একেকটি মায়ের বুকভাঙা অপেক্ষার গল্প।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জামিন না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ মা-বাবার অসহায়ত্ব, সন্তানের জন্য তাঁদের অপেক্ষা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা মানবিক বিবেচনায় গভীর মনোযোগ দাবি করে।

পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাঁদের সন্তানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক নেতাকর্মীকে মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নির্দিষ্ট মামলা ও আদালতের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন, তবু অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

একজন মায়ের কাছে তাঁর সন্তান শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন—তিনি তাঁর বুকের ধন, জীবনের অবলম্বন, বার্ধক্যের আশ্রয়। সেই সন্তান যখন কারাগারে থাকেন, তখন মায়ের প্রতিটি দিন কাটে উৎকণ্ঠায়। কখনো আদালতের তারিখের অপেক্ষা, কখনো আইনজীবীর কাছে খবর নেওয়া, আবার কখনো সন্তানের সঙ্গে দেখা করার আশায় দীর্ঘ প্রতীক্ষা। এই অপেক্ষার যন্ত্রণা বাইরে থেকে অনুভব করা কঠিন।

রাজনীতি, মতাদর্শ কিংবা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানুষের মৌলিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেই তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন না। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়সংগত বিচার এবং আইন অনুযায়ী জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করা একটি ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কোনো মামলাকে মিথ্যা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়।

তবে যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যেন কেউ অন্যায্য আচরণের শিকার না হন—এ প্রত্যাশা সবার।

আদালতের বারান্দায় অপেক্ষমাণ সেই বৃদ্ধ মায়েদের চোখের পানি তাই শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বেদনা নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আনে।

শেয়ার করে অন্যদের জানান