ক্ষমতা বদলালেও আচরণ বদলায়নি, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত শিক্ষকদের হেনস্তার অভিযোগ
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | বিশেষ প্রতিবেদন
ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। বদলেছে সরকার, বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। কিন্তু অভিযোগ উঠছে—বদলায়নি শিক্ষকদের প্রতি রাজনৈতিক আচরণের সেই পুরোনো চিত্র।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে এখনও নানাভাবে চাপ, হেনস্তা ও পদত্যাগের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ইউনূস সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে যেভাবে কিছু শিক্ষককে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল, তারই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েও।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রশ্নটি উঠছে আজ, শিক্ষক দিবসে।
যারা শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে প্রজন্মকে শিক্ষা দেন, তাদের কি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপমানিত হতে হবে? মতাদর্শ ভিন্ন হলেই কি একজন শিক্ষক তার পেশাগত মর্যাদা হারাবেন? আর ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কি শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগের ধরনও শুধু পক্ষ বদলাবে?
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হতে পারে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হেনস্তা করা, সামাজিকভাবে অপদস্থ করা কিংবা জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন শিক্ষকের ওপর অন্যায় নয়—এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।
কারণ একজন শিক্ষক কোনো দলের নন—তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষক।
ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়। রাজনৈতিক পালাবদল হয়। কিন্তু একটি শিক্ষকের সম্মান যেন ক্ষমতার সঙ্গে পালাবদল না হয়।
আজ শিক্ষক দিবসে তাই প্রশ্নটা আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।