মেধাতালিকায় ১১তম হয়েও গেজেট থেকে বাদ সুমি আক্তার, নিয়োগপ্রক্রিয়াতে জালিয়াতি।
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | বিশেষ প্রতিবেদন
প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা—বিসিএসের তিনটি ধাপ পেরিয়েও শেষ রক্ষা হলো না! ৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সুমি আক্তারকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেধাক্রমে ১১তম অবস্থানে থাকা সুমি আক্তারের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন থমকে গেছে গেজেট প্রকাশের সময়। দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠিন প্রতিযোগিতা ও একের পর এক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি একজন প্রার্থী শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েন, তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যোগ্যতার মূল্যায়ন হচ্ছে, নাকি যাচাই-বাছাইয়ের নামে তৈরি হচ্ছে নতুন বৈষম্য?
বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এমন অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ তৈরি করার মতোই। ভেরিফিকেশনের নামে যদি প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট কারণ, প্রমাণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করা জরুরি। অন্যথায় মেধাবীদের মধ্যে তৈরি হবে অনিশ্চয়তা, আর প্রশ্নবিদ্ধ হবে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা।
ঘুষ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দলীয়করণ কিংবা বাছাই করা প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ—যে কোনো অনিয়মই মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার জন্য হুমকি। কোটা নিয়ে আন্দোলনের সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ দেখা গেছে আত্ম প্রশ্নে তা বিলুপ্ত, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রশ্নে সেই নাগরিক সচেতনতা জরুরি।
সরকারের কাছে প্রশ্ন—মেধাক্রমে এগিয়ে থেকেও যদি একজন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী গেজেটে স্থান না পান, তাহলে তাঁর বাদ পড়ার কারণ কী? কোন মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
সুমি আক্তারের ঘটনায় ওঠা অভিযোগের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কারণ, একজন প্রার্থীর স্বপ্নের প্রশ্নের পাশাপাশি এখানে জড়িয়ে আছে হাজারো বিসিএস প্রত্যাশীর ভবিষ্যৎ এবং সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ পাওয়ার বিশ্বাস।
মেধার মূল্যায়ন চাই, স্বেচ্ছাচারিতা নয়। চাকরিতে স্বচ্ছতা চাই।