📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:৫০

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে তোলপাড়! ৪ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার।

 

বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | নিজস্ব প্রতিবেদক

 

কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বরগুনার আমতলীতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্লোগানকে ঘিরে ছাত্রলীগের এক নেতাসহ চার শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের খবর সামনে আসার পর ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

 

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কলেজের একাদশ ও স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পেছন থেকে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে ওই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এরপরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার দুপুরে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে কলেজের সামনে থেকে ধরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে জুমার নামাজের পর মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে চার শিক্ষার্থীকে আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়।

 

‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কী ঘটেছিল?

 

ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল কাজীর বাবা মাহবুব কাজীর অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল। পরে রাতে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়াও জানিয়েছেন, নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যান বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

 

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকিরের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

 

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে ৩২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

 

কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তার এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক পরিচয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

 

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনগত ভিত্তি কী, তাঁদের আটক করার প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না এবং পুরো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য কী—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা এবং আইনি দায় নির্ধারণের দায়িত্ব যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও আদালতের।

 

বাংলাদেশ ইনসাইডার্সের পর্যবেক্ষণ: রাজনৈতিক মত বা স্লোগানকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থী যেন আইনবহির্ভূত হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিচার হতে হবে প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে।

শেয়ার করে অন্যদের জানান