📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:২৫

সারাদেশে কমিটি গঠনের হিড়িক, জীবনবৃত্তান্ত জমা নিয়েও দেওয়া হচ্ছে না খুলনা জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। এক হাজার পদে স্থান পেয়েছে কয়েকটি কমিটি, খুলনায় নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় পদপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | রাজনৈতিক প্রতিবেদন

সারা দেশে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন নিয়ে তৎপরতা চললেও দীর্ঘদিন ১০ বছরেও নতুন কমিটি পায়নি খুলনা জেলা ও নগর ছাত্রলীগ। দীর্ঘদীনের নিষ্ক্রিয় কমিটি ২ মাস আগে বিলুপ্ত করে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা নিলেও জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

 

খুলনার রাজনীতিতে বর্তমানে সক্রিয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে জোর তাগিদ চালাচ্ছে। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন এবং রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, তাঁদের সাংগঠনিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। এমন পরিস্থিতিতে খুলনা জেলা ও নগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে পদ-প্রত্যাশীদের ভেতরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

 

১০ বছর গড়িয়ে ১১ বছরে পদার্পণ করেছিল এই কমিটি।

 

২০১৭ সালের জুলাই মাসে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং সভাপতি পদে পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইমরান দায়িত্ব পান। এর প্রায় ছয় মাস পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এবং নগর ছাত্রলীগের কমিটি ২০১৫ সালের সম্মেলনে সভাপতি শাহাজালাল হোসেন সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক হন রাসেল হোসেন। তার চার বছর পর ২০১৯ সালের জুনে ২১৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সেই কমিটি প্রায় ১ যুগ চলেছে কিন্তু নতুন কমিটি হয়নি।

 

দীর্ঘ সময় ধরে একই কমিটি দায়িত্বে থাকায় সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দাবি জোরালো হয়েছে দীর্ঘদিন আগে থেকেই। পদপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছিলেন, চলমান নেতৃত্বের অনেকেই বিয়ে ও সংসারসহ ব্যক্তিগত জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং সাংগঠনিক রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় নেই। ফলে নতুনদের জন্য নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই ফিটনেস-বিহীন কমিটি দিয়েই চলছিল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

 

২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের পুরাতন কমিটি ও তার নেতাকর্মীরা একদমই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এবং নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা মিছিল, মিটিং, পোস্টারিং, খাদ্য বিতরণ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 

নতুন কমিটি গঠনে উদ্যোগ

 

২০২৬ সালের জুলাই মাসে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এবং নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

দুটি পদে প্রায় ৫০০ এর অধিক প্রার্থী জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল এবং পদ পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবিরও চলেছিল।

 

তবে কোনো অজানা কারণে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জেলা, নগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কমিটি হলেও এখনো দেখা মেলেনি খুলনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির। ফলে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

 

নেতৃত্বশূন্য জেলা কমিটি, নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে সক্রিয় থাকা নেতা-কর্মীদের স্বীকৃতির প্রশ্ন, সব মিলিয়ে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

 

পদপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এখন প্রশ্ন, সারাদেশে কমিটি গঠনের তৎপরতার মধ্যে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ কবে দৃশ্যমান হবে?

শেয়ার করে অন্যদের জানান