📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪১

রিজার্ভের ডলার বিক্রি করেও সামলানো যাচ্ছে না বাজার, চাপে তারেক রহমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা

 

বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | অর্থনীতি

 

নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সরকার গঠনের পর অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে ডলারের বাজারে অস্থিরতা। বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, ডলার বিক্রি করে আর কতদিন সামাল দেওয়া যাবে দেশের অর্থনীতি?

 

৪ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ডলারের বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৭০ পয়সায় কিনছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রির নিলাম ডাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ডলার বিক্রি করেনি। কারণ, ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবিত দর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশিত দরের চেয়ে বেশি ছিল।

 

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করে। অথচ ব্যাংকগুলোর চাহিদা ছিল প্রায় ৮০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে মোট ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতসব হস্তক্ষেপের পরও ডলারের বাজারে চাপ পুরোপুরি কমেনি।

 

ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি আমদানির ব্যয়, সরকারি সংস্থাগুলোর বৈদেশিক দেনা পরিশোধ, রেমিট্যান্স প্রবাহের দুর্বলতা এবং রপ্তানি আয়ের প্রত্যাশিত গতি না থাকার মতো বিষয়গুলো কাজ করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠছে।

 

অন্যদিকে ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ বহন করতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের।

 

নির্বাচনের আগে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ডলারের বাজারে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

 

অতীতের অর্থনৈতিক সংকটের দায় থাকলেও বর্তমান সরকারের কাছে এখন জনগণের প্রত্যাশা কার্যকর সমাধান। শুধু রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে সাময়িকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা নয়, বরং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রিজার্ভের ডলার বিক্রি করে সাময়িক স্বস্তি দেওয়া গেলেও অর্থনীতির মৌলিক সমস্যার সমাধান কবে করবে তারেক রহমান সরকার?

শেয়ার করে অন্যদের জানান