📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২৮

দৌড়ের মাঠে তার পায়ে ছিল না স্পোর্টস শু। পরনে ছিল না ট্র্যাকস্যুট। ছিল একটি সাধারণ শাড়ি আর পায়ে প্লাস্টিকের চপ্পল। কিন্তু প্রতিযোগিতা যত এগিয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে—রমাবাই রণবীরের লড়াইটা অন্যদের সঙ্গে নয়, নিজের জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে।
৪৭ বছর বয়সী এই নারী শেষ পর্যন্ত চপ্পল খুলে হাতে তুলে নেন। তারপর খালি পায়েই ছুটতে থাকেন কাদামাটি আর পাথুরে পথ পেরিয়ে। লক্ষ্য একটাই—সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছানো। কারণ সেখানে অপেক্ষা করছিল ৩ হাজার রুপির পুরস্কার। আর সেই অর্থ দিয়েই দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচে কিছুটা স্বস্তি আনতে চেয়েছিলেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার আম্বাজোগাইয়ের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় আড়াই কিলোমিটারের ‘অমৃত দৌড়’। এতে কয়েকশ তরুণ-তরুণীর পাশাপাশি অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা রমাবাই।
দৌড়ের শুরুতেই অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তার পার্থক্য চোখে পড়ে। কারও পায়ে দামি স্পোর্টস জুতা, কারও পরনে দৌড়ের উপযোগী পোশাক। বিপরীতে রমাবাই ছুটছিলেন শাড়ি পরে, পায়ে সাধারণ চপ্পল।
তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই চপ্পলও তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বারবার পা থেকে খুলে যাচ্ছিল সেটি। গতি কমিয়ে চপ্পল সামলানোর বদলে একসময় সেটি খুলে হাতে নেন রমাবাই। এরপর খালি পায়েই শুরু হয় তার আসল দৌড়।
কাদাপানি, পাথর কিংবা রাস্তার নানা প্রতিবন্ধকতা—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। শাড়ি সামলে একের পর এক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সবার আগে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করে জয় নিশ্চিত করেন রমাবাই।
তার হাতে ওঠে ট্রফি। তবে বিজয়ের মুহূর্তে যে চপ্পলটি তাকে বারবার আটকে দিচ্ছিল, সেটিও ছিল তার হাতেই। যেন সেটিই হয়ে উঠেছিল পুরো লড়াইয়ের প্রতীক।
রমাবাইয়ের জীবনের গল্পটাও কম সংগ্রামের নয়। কয়েক বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নেন তিনি। কৃষিনির্ভর পরিবার হওয়ায় আয়ও ছিল সীমিত। মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন রমাবাই। সুযোগ পেলে অতিরিক্ত কাজও করেন।
কারণ তার কাছে মেয়েদের পড়াশোনা থেমে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।
তাই ৩ হাজার রুপির এই পুরস্কারও তার কাছে শুধুই প্রতিযোগিতার অর্থ নয়। এই টাকা দিয়ে মেয়েদের বই, টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ মেটাতে চান তিনি।
রমাবাইয়ের জয় তাই একটি দৌড় প্রতিযোগিতার ফলাফলের চেয়েও বড় কিছু। এটি একজন মায়ের দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করে যাওয়ার গল্প।
পায়ে জুতা ছিল না, ছিল না আধুনিক পোশাক। ছিল শুধু অদম্য ইচ্ছাশক্তি। আর সেই শক্তির কাছেই শেষ পর্যন্ত হার মানে পথের সব বাধা।
রমাবাই দৌড়েছেন, জিতেছেন—আর সেই জয়ের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হতে যাচ্ছে তার মেয়েদের ভবিষ্যৎ।

শেয়ার করে অন্যদের জানান