📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:৫৮

রাজশাহীর মাটি থেকে জাতীয় নেতৃত্ব: বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সংগ্রামী জীবন

 

রাজশাহী প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার্স

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ইতিহাসে যাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়, তাঁদের অন্যতম শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান। রাজশাহীর মাটি থেকে উঠে আসা এই নেতা হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় চার নেতার একজন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দেশপ্রেমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে রেখে গেছেন স্বতন্ত্র অবস্থান।

 

১৯২৩ সালের ২৬ জুন বৃহত্তর রাজশাহী জেলার নাটোর মহকুমার বাগাতিপাড়ার নূরপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল রাজশাহী শহরের কাদিরগঞ্জ এলাকায়। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সমৃদ্ধ পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। শিক্ষাজীবনে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালে নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের রাজশাহী জেলা শাখার সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্বও পান।

 

মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

 

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জাতীয় চার নেতা। মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

 

বিশেষ করে যুদ্ধকালীন শরণার্থী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পরও তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে নতুন মন্ত্রিসভায় শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

 

বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন থেকে জাতীয় চার নেতার একজন

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর হিসেবে কামারুজ্জামান দীর্ঘদিন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সাংগঠনিক দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা। রাজশাহীর আঞ্চলিক রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর জাতীয় চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত।

 

রাজশাহীর ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম

 

এ এইচ এম কামারুজ্জামান শুধু একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ ছিলেন না; তিনি ছিলেন রাজশাহীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর জন্ম, রাজনৈতিক উত্থান, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

 

রাজশাহীর কাদিরগঞ্জে তাঁর সমাধি আজও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। সময়ের পরিবর্তনে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম হিসেবে তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

এ এইচ এম কামারুজ্জামানের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আরও গবেষণা, দলিলভিত্তিক আলোচনা এবং নিরপেক্ষ ইতিহাসচর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শেয়ার করে অন্যদের জানান