📅 Loading... | লোড হচ্ছে... | লোড হচ্ছে...

Bangladesh Insiders

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি
তারিখ সিলেক্ট করুন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:১৭
বাস নেই, তবুও বাস মালিক সমিতির কমিটিতে—তাঁরা এলেন কীভাবে?
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অনুমোদিত ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসার পর কমিটির গঠনপ্রক্রিয়া ও সদস্যদের বাস মালিক সমিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুমোদনপত্রে কমিটির সদস্য হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মামুন, দিদারুল হক, সৈয়দ আলী মুযতবা তাজবীর ও শফিকুল ইসলাম-এর নাম রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, আব্দুল্লাহ আল মামুন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, দিদারুল হক জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ আলী মুযতবা তাজবীর কিশোরগঞ্জ পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং শফিকুল ইসলাম লতিফাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের পরিবহন মালিকানা বা পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে?
সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, উল্লিখিত ব্যক্তিদের নিজস্ব বাস নেই। তবে এই দাবির পক্ষে সরকারি মালিকানা নথি বা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা কোনো দলিল এই প্রতিবেদনের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি সত্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কমিটিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব কতটা?
পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনের কমিটিতে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, কমিটি গঠনে পেশাগত সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রভাব ফেলেছে।
তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে নেই।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা ও কিশোরগঞ্জ-কক্সবাজার রুটে ‘কিশোরগঞ্জ ডিলাক্স’ এসি বাস সার্ভিস চালুর খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি হিসেবে আনিছুজ্জামান বাবুলের নাম উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। সে সময় সমিতির সভাপতি আনিছুজ্জামান বাবুল জানিয়েছিলেন, অভিযোগের বিস্তারিত তাঁরা তখনও পাননি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন।
৩১ সদস্যের কমিটি ছয় মাসের জন্য
প্রাপ্ত অনুমোদনপত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিকে ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
কমিটিতে আনিছুজ্জামান বাবুলকে আহ্বায়ক এবং শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
অনুমোদনপত্রে কমিটির দায়িত্ব হিসেবে রুটে চলাচলকারী মালিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণে সহযোগিতা, টার্মিনাল ও রুটে যানজট নিরসন, অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মালিক-চালকদের নিয়ে নিয়মিত সভা ও কাউন্সেলিংয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে—
বাস মালিক সমিতির কমিটিতে থাকা প্রত্যেক সদস্যের বাস মালিকানা ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে?
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পেশাগত যোগ্যতা ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে কি কমিটি গঠন করা হয়েছে?
আর যাঁদের বিরুদ্ধে বাস মালিক না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মালিকানা বা পরিবহন ব্যবসার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
বাংলাদেশ ইনসাইডার এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং কমিটিতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

শেয়ার করে অন্যদের জানান