বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদ
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | ঢাকা
বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ছয় দফা আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাজউদ্দীন আহমদ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনা ও সংগঠিত করতেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে গেলে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে তাজউদ্দীন আহমদের ওপর। তাঁর নেতৃত্ব ও উদ্যোগে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী এবং পরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় তিন নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে জেলহত্যা দিবস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।