কসবায় নারী শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
নিউজ
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক নারী শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন ওরফে জিন্নাহকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা না হলে কসবা থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। বক্তারা বলেন, ঘটনার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আমিন মোল্লা, স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আজাদ মিয়া ও ছাত্রদল নেতা খন্দকার সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর ওই নারী শিক্ষক হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করে অটোরিকশায় উঠতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে রাজি না হলে তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করে শিক্ষিকার পেটে ঠেকান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে অটোরিকশায় তোলেন বলে অভিযোগ।
এজাহারে আরও বলা হয়, কুল্লাবাড়ি জোড়া সেতুর কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে ওই শিক্ষক অটোরিকশা থেকে লাফ দেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে দেলোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে কসবা থানায় মামলা করেন ওই নারী শিক্ষক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ওই শিক্ষকই তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁকে বিদ্যালয়ের সামনে যেতে বলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যালয় ছুটির পর তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরে রাগ কমানোর জন্য তিনি শিক্ষিকাকে অটোরিকশায় করে কিছুক্ষণ ঘুরিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযোগের সত্যতা, অস্ত্রের ব্যবহার এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।