এশার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়ে কন্দিগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা ও মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | নিজস্ব প্রতিবেদক
নামাজ পড়তে গিয়েও কি মানুষ নিরাপদ নয়? মহান আল্লাহর দরবারে সিজদা করতে মসজিদে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় এমনই প্রশ্ন সামনে এসেছে। কিশোরগঞ্জের ছয়সূতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কন্দিগ্রামের বাসিন্দা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে এশার নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।
তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, নাশকতার পরিকল্পনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগ আর অপরাধ প্রমাণ—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন; কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় তার মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন উঠছে, ইবাদতের পবিত্র স্থানেও কি এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গ্রেপ্তার আতঙ্কে থাকতে হবে?
মসজিদ মানুষের ইবাদত, আত্মিক প্রশান্তি ও ধর্মীয় চর্চার স্থান। সেখানে নামাজ আদায় করতে গিয়ে একজন রাজনৈতিক কর্মীর গ্রেপ্তারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই মানবিকতা, নাগরিক অধিকার এবং আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে আদালতে তার বিচার হোক। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় যেন কারও বিরুদ্ধে অপরাধের চূড়ান্ত মানদণ্ড হয়ে না দাঁড়ায়। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, রাজনৈতিক বিরোধও থাকতে পারে। কিন্তু আইনের শাসন ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব হওয়া উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা থাকা জরুরি।
মসজিদ কি কেবল ইবাদতের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকবে, নাকি রাজনৈতিক আতঙ্কের আলোচনাও সেখানে পৌঁছে যাবে? মোয়াজ্জেম হোসেনের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ঘিরে এই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
ক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা। অভিযোগের বিচার হোক আইনের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার—সবকিছুরই সমান গুরুত্ব নিশ্চিত করা হোক।