পুলিশকে ‘জান কালাকালা’ করে দেওয়ার হুমকি, শিবিরের সাবেক নেতার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা
নোয়াখালী প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার্স
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনী সরকারি কলেজ শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘তোদের (পুলিশের) জান কালাকালা করি দিমু দাঁড়া।’
আতিকুরকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযানের সময় তার ঘরের দরজার তালা ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পোস্টটি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পোস্টে কোম্পানীগঞ্জ থানার সদ্যবিদায়ী ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিমের বদলির প্রসঙ্গ টেনে আতিকুর প্রশ্ন তোলেন—‘বদলি কি সব সমস্যার সমাধান?’ একইসঙ্গে তিনি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাড়িতে ‘ন্যক্কারজনক হামলার’ অভিযোগ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার সদ্যবিদায়ী ওসি নুরুল হাকিম বলেন, ঘরের দরজা বা আলমারি ভাঙার অভিযোগ সত্য নয়; এটি সাজানো। তার দাবি, আতিকুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের জন্যই নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার রাতে ওসি নুরুল হাকিম ও পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ আতিকুরকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের অভিযানে ঘরের দরজা ভাঙার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে চরপার্বতী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
আতিকুরের দাবি, তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে করা মামলাগুলোর কয়েকটি থেকে তিনি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে খালাস পেয়েছেন। তবে মামলার নকল সংগ্রহ করা হয়নি বলে সোমবার নকল সংগ্রহ করে থানায় জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঘটনার পর তার ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য—দুই পক্ষের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।