ডিসেম্বরে বিমানের টিকিটের তীব্র সংকট, মিলছে না সিট!
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | ঢাকা
ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে দেশে-বিদেশে যাতায়াতের পরিকল্পনা করছেন বহু বাংলাদেশি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের প্রাপ্যতা ও ভাড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে ডিসেম্বরের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।
তবে ডিসেম্বরের ফ্লাইটগুলোতে সার্বিকভাবে আসন সংকট দেখা দিয়েছে কিংবা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরার পরিকল্পনার কারণে টিকিটের সংকট তৈরি হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে টিকিট সংকটের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
চলতি বছরের ১০ জুলাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরতে চান। দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে সাক্ষাৎকারে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ বা যাত্রাপথ চূড়ান্ত করেননি।
পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট দিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যেও ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। ২০ অক্টোবরের এক বক্তব্যেও তিনি ডিসেম্বরেই ফেরার কথা বলেছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাননি।
শেখ হাসিনার ঘোষণার পর বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর ৮ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বরাতে বলা হয়, বিভিন্ন দেশ থেকে দলটির নেতারা কলকাতায় সমবেত হচ্ছেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রস্তুতি ও আলোচনা করছেন।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে অবস্থানরত নেতাদের একটি অংশ ডিসেম্বরের আগে কলকাতায় যোগ দিতে পারেন। সাবেক সিলেট সিটি করপোরেশন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বিদেশে থাকা নেতাকর্মীদের নিয়ে চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
টিকিট সংকটের আলোচনায় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা বাড়লেও তাঁদের যাত্রার মাধ্যম নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ফেরার সম্ভাব্য পথ নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে স্থলবন্দর দিয়ে ফেরার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, আবার বিদেশে থাকা নেতাকর্মীদের চার্টার্ড বিমানে ফেরার ইচ্ছার কথাও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রুটে ডিসেম্বরের আসনসংখ্যা, ভাড়া এবং টিকিটের প্রাপ্যতা নির্ভর করে যাত্রীচাহিদা, উড়োজাহাজের সংখ্যা, ফ্লাইটের সময়সূচি ও বুকিংয়ের ওপর। নির্দিষ্ট রুট ও তারিখের তথ্য ছাড়া সার্বিক টিকিট সংকটের মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতিও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়সহ একাধিক আইনি বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নেতাকর্মীদের দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ ও আইনি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাস ঘিরে বিমান টিকিটের প্রাপ্যতা, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা—তিনটি বিষয়ই আলোচনায় রয়েছে। তবে টিকিট সংকটের প্রকৃত চিত্র জানতে বিমান সংস্থা, ট্রাভেল এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে কী রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।