চুরি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তি ছাত্রলীগের মামলার বাদী, তাকে গ্রেপ্তার করেছে না প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার্স
কিশোরগঞ্জ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলা ও গ্রেপ্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী রফিক নিজেই একটি চুরি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। অথচ তাকে গ্রেপ্তার না করে তার দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ব্যক্তি যখন অন্য একটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, তখন তার বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানা কার্যকর না করে তার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কেন?
তাদের দাবি, পিরোজপুরে ছাত্রলীগের মিছিলের পর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ওই মামলার বাদীর বিরুদ্ধেই চুরি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, “যে ব্যক্তি নিজেই চুরি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তার দায়ের করা মামলায় আমাদের সাধারণ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অথচ তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—এটি আমাদের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগ ও ক্ষোভের বিষয়।”
তাদের ভাষ্য, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করা পুলিশের দায়িত্ব। একইভাবে কোনো মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাজিতপুর থানা পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন—রফিকের বিরুদ্ধে থাকা চুরি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার বর্তমান আইনগত অবস্থান কী।
তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, পরোয়ানার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে একই আইনি মানদণ্ড প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
তবে রফিকের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সেটি বর্তমানে কার্যকর আছে কি না—এ বিষয়ে আদালতের নথি ও বাজিতপুর থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।