একের পর এক প্রাণহানি, নিরাপদ নয় বাবার কোলের নিষ্পাপ শিশুটিও!
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। এবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে প্রাণ গেল ছয় বছরের শিশু তোয়াবা আক্তার ও তার বাবা গোলাপ হোসেনের। বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে শিশুটি। গুরুতর আহত বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শিশুটির মরদেহ একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে, গুরুতর আহত গোলাপ হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
একটি শিশুর জন্য বাবার কোল মানেই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। অথচ সেই বাবার সঙ্গেও নিরাপদে বাড়ি ফেরা হলো না ছয় বছরের তোয়াবার। যে বয়সে তার হাসি-খেলায় মুখর থাকার কথা ছিল পরিবার, সেই বয়সেই নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে থেমে গেল তার জীবন।
এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে যদি একটি শিশুকেও প্রাণ দিতে হয়, তবে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
একটি শিশুর জীবনও কি নিরাপদ নয়? বাবার হাত ধরে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তাটুকুও কি হারিয়ে যাচ্ছে?
তোয়াবা ও তার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে সচেতন মহল। একই সঙ্গে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।