হঠাৎ সেকেন্ড পাসপোর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে জাতীয় নেতাদের, নেপথ্যে কী?
বাংলাদেশ ইনসাইডার্স | নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় রাজনীতিতে বিদেশি নাগরিকত্ব ও দ্বিতীয় পাসপোর্ট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতার পালাবদল, নিরাপত্তা, বিদেশে সম্পদ ও পরিবারের অবস্থান—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় নেতাদের একাংশের কাছে বিদেশি নাগরিকত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?
রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিদেশে বসবাসের বিকল্প, পরিবারের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের সুবিধা অনেকের কাছে বিবেচ্য হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট নেতাদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট নেওয়ার আগ্রহ কিংবা এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনীতিতে বিতর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আল জাজিরা ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে জানায়, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আপত্তিতে ২৫ জন প্রার্থীর বিষয় পর্যালোচনা করেছিল। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের প্রার্থিতা বহাল রাখা হয় এবং দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্বের অবস্থা যাচাইয়ের দাবিতে আইনি নোটিশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এটি ছিল যাচাইয়ের দাবি—বিদেশি নাগরিকত্ব থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
দ্বিতীয় পাসপোর্টের নেপথ্যে কী?
বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবারের বসবাস, সন্তানদের শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক চলাচলের সুবিধা দ্বিতীয় নাগরিকত্বের প্রতি আগ্রহের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। একইভাবে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও কারও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনাকে সব জাতীয় নেতার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা তার প্রতি আনুগত্য স্বীকারের সঙ্গে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি ব্যক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করে।
মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সেকেন্ড পাসপোর্ট কি কেবল ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিকল্প ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রস্তুতি?