দেশ ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না জুলাই আন্দোলনকারীদের! নেপথ্যে আসলে কী?
ঢাকা প্রতিনিধি | বাংলাদেশ ইনসাইডার্স
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে জামাইকা যাওয়ার পথে তাকে আটকে দেওয়া হয় বলে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
মাহদী হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার জামাইকা যাওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগে বিমানবন্দরে পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত তাকে ওই ফ্লাইটে যেতে দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন।
কেন আটকে দেওয়া হলো?
ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—কোন কারণে মাহদী হাসানকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলো না?
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিমানবন্দর ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মাহদীর বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। তাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরে যেতে বলা হয়। তবে ঠিক কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং কী নির্দিষ্ট কারণে তার যাত্রা বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মাহদীর দাবি, তাকে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে তার ক্ষেত্রে কোনো আদালতের নির্দেশ, ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর ছিল কি না—সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগেও বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ
মাহদী হাসানকে ঘিরে বিমানবন্দরে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল বিমানবন্দরে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে তাকে বিমানবন্দর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে ভারতেও ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে থাকার ঘটনা নিয়ে মাহদী অভিযোগ করেছিলেন। এসব ঘটনার পর এবার বাংলাদেশে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জুলাই আন্দোলনকারীদের বিদেশযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন
মাহদী হাসানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠছে—জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আরও কারও বিদেশযাত্রায় কি একই ধরনের বাধা রয়েছে? থাকলে এর আইনি ভিত্তি কী? নাকি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে?
তবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাহদীকে ঠিক কোন আইনি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি, সেটি স্পষ্ট নয়।