একজন স্পিনারের দুই হাতে বল ঘোরানোর দৃশ্য ক্রিকেটে সত্যিই বিরল। আর সেই বিরল প্রতিভাই যেন নিজের দক্ষতায় স্বাভাবিক করে তুলেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের তরুণ অলরাউন্ডার বিজয় যাদব। ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ডান হাতের পাশাপাশি বাঁ হাত দিয়েও কার্যকর স্পিন করতে পারেন।
উত্তর প্রদেশ টি-টোয়েন্টি লিগে নিজের বোলিং দিয়ে ইতোমধ্যে নজর কেড়েছেন বিজয়। তার বিশেষত্ব শুধু দুই হাতে স্পিন করাতেই সীমাবদ্ধ নয়; লোয়ার মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যও রয়েছে তার। ফলে ব্যাটিং-বোলিং দুই দিক থেকেই দলের জন্য বাড়তি বিকল্প তৈরি করেন এই ক্রিকেটার।
গোরখপুরে বেড়ে ওঠা বিজয়ের ক্রিকেটে আসার গল্পটাও বেশ সাধারণভাবে শুরু হয়েছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয় তাকে ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট করে। পরের বছর, ২০১২ সালে, শুরু করেন নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন।
পরবর্তী সময়ে উত্তর প্রদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিজয়। অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তাকে নিয়ে আসে ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগে। প্রথম দুই মৌসুম গোরখপুর লায়ন্সের হয়ে খেলার পর ২০২৬ মৌসুমের আগে তাকে দলে ভেড়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাশী রুদ্রাস। তার জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটি খরচ করে ৫ লাখ ২০ হাজার রুপি।
শুরুতে বিজয়ের মূল অস্ত্র ছিল ডানহাতি অফস্পিন। কিন্তু ব্যাটারদের জন্য নিজের বোলিংকে আরও কঠিন করে তুলতে শুরু করেন নতুনভাবে অনুশীলন। বিশেষ করে ডানহাতি ব্যাটারদের বিপাকে ফেলতে বাঁ হাতেও স্পিন করার দক্ষতা রপ্ত করেন তিনি। কঠোর অনুশীলনের ফলে দুই হাতেই বল করার সক্ষমতা এখন তার অন্যতম বড় পরিচয়।
বিজয়ের ক্রিকেট-আদর্শ বিরাট কোহলি। ভারতীয় এই তারকা ব্যাটারের পরিশ্রম, মানসিক দৃঢ়তা ও মাঠে লড়াই করার মানসিকতা বিজয়কে অনুপ্রাণিত করে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার বোলিংয়ের প্রশংসা পেয়েছেন আরেক ভারতীয় তারকা রিঙ্কু সিংয়ের কাছ থেকেও। টুর্নামেন্টে বিজয়ের বিপক্ষে খেলার পর রিঙ্কু তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেন এবং আরও উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এখন বিজয়ের চোখ আরও বড় মঞ্চে। পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই আইপিএলে জায়গা করে নিতে চান। সেই লক্ষ্যে বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়েও সমান গুরুত্ব দিয়ে অনুশীলন করছেন তিনি।
দুই হাতে স্পিন করার বিরল সামর্থ্য, সঙ্গে ব্যাট হাতে কার্যকর হওয়ার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে বিজয় যাদবের সামনে খুলে যেতে পারে ভারতীয় ক্রিকেটের বড় মঞ্চের দরজা। এখন তার লক্ষ্য একটাই—ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগের পারফরম্যান্সকে পুঁজি করে আইপিএলের আলোয় পৌঁছানো।